মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি এবং শুক্রাণু

 


পুরুষের স্পার্মের গঠন, উৎপাদন এবং নির্গমন নিয়ে ভাবছিলাম। সৃষ্টি নিয়ে ভাবা আমার একটা নেশা। আল্লাহর দাসত্বে নিমগ্ন হতে এগুলো আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করে।

ভাবনার এক জায়গায় থমকে গেলাম। পুরুষের অণ্ডকোষ কেন শরীরের বাইরে এসে ঝুলে থাকে সেটার একটা কারণ খুঁজে পেলাম আধুনিক মেডিকেল বিজ্ঞানে। আল্লাহু আকবার, তিনি কতো মায়া করে আমাদেরকে দুনিয়াতে আনলেন!

আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, শুক্রাণু তৈরির কারখানা হচ্ছে অণ্ডকোষ। বিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্থ পুরুষের অণ্ডকোষে ​প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০টি শুক্রাণু তৈরি হয়। ​প্রতি মিনিটে প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০টি। ​প্রতি দিনে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মিলিয়ন (১০ থেকে ২০ কোটি) শুক্রাণু উৎপাদিত হয়। প্রতি স্খলনে যদি ২০০ মিলিয়ন বের হয় তাহলে তো প্রতি সেকেন্ডে এতো পরিমাণ উৎপাদন হওয়া লাগবেই, তাইনা! ব্যয় ও যোগানে ভারসাম্য না থাকলে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।  অবাক করার বিষয় হল, এগুলো পরিপক্ব হতে সময় লাগে অন্তত ৭৪ দিন বা আড়াই মাস। 

কারণ তিনটা ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমে অণ্ডকোষের ভেতর প্রাথমিক কোষ বিভাজন শুরু হয়। এরপর সেগুলো এপিডিডিমিস (Epididymis) নামক অংশে গিয়ে জমা হয় এবং সেখানে প্রায় ২-৩ সপ্তাহ সময় নিয়ে সাঁতার কাটার ও নিষিক্ত করার ক্ষমতা অর্জন করে। পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি হওয়ার পর সেগুলো বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।

মূল আলোচনায় ফিরে আসি। আলোচনার বিষয় ছিল, অণ্ডকোষ কেন শরীরের বাইরে থলের মতো ঝুলে থাকে। এটার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে অন্ডকোষের থার্মোরেগুলেশন বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ। 

শুক্রাণু তৈরির জন্য অণ্ডকোষকে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম তাপমাত্রায় (প্রায় 2°C থেকে 3°C কম) থাকতে হয়।

​যখন বাইরে গরম থাকে বা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন অণ্ডকোষের পেশিগুলো (Cremaster muscle) শিথিল হয়ে যায়। ফলে অণ্ডকোষ শরীর থেকে দূরে ঝুলে থাকে যাতে এটি ঠান্ডা হতে পারে।

​আবার যখন ঠান্ডা লাগে, তখন এই পেশিগুলো সংকুচিত হয়ে অণ্ডকোষকে শরীরের কাছে টেনে নেয় যাতে শরীর থেকে তাপ নিয়ে সেটি গরম থাকতে পারে।

এতো মেকানিজমের পরই আমরা দুনিয়াতে এসেছি। এসে আমাদের সেই কী অহংকার! আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার সেই কী প্রতিযোগিতা! 

থামুন।

বন্য মিছিল ত্যাগ করে রবের আনুগত্যে ফিরে আসুন।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ