রহস্যময় এন্টার্কটিকা

 


মহাকাশ থেকে পৃথিবী’র সেই রহস্যময় শেষ প্রান্তের চিত্র! যেখানে বছরে টানা ৬ মাসে রাত এবং ৬ মাস দিন থাকে! এটি পৃথিবীর একমাত্র রহস্যের জায়গা‚ যেখানে ৬ মাস সূর্য ওঠে না‚ আর ৬ মাস সূর্য ডোবে না! এটি পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু “অ্যান্টার্কটিকা”। সেখান কোনো বৃষ্টিপাত নেই বলে‚ অ্যান্টার্কটিকাকে পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি ধরা হয়। অ্যান্টার্কটিকার অনেক জায়গায় গত ২০ লাখ বছর ধরে এক ফোঁটা বৃষ্টি বা তুষারপাত হয়নি! অবাক হবেন‚ এই জায়গায় এতই ঠান্ডা যে‚ যদি ফুটন্ত জল বাতাসে ছুঁড়ে দেন‚ তবে তা মাটিতে পড়ার আগেই বরফ হয়ে যাবে। এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে -৮৯.২°C।  তাছাড়া এইখানে কোনো নির্দিষ্ট টাইম জোন বা সময় অঞ্চল নেই। কারণ পৃথিবীর সব দ্রাঘিমা রেখা এখানে এসে মিলেছে। বিজ্ঞানীরা এখানে সাধারণত তাদের নিজেদের দেশের সময় অথবা যে দেশ থেকে রসদ আসে (যেমন নিউজিল্যান্ড) সেই দেশের সময় অনুসরণ করেন। আরেকটু অবাক করতে চাই‚ দক্ষিণ মেরুর বিশাল বরফের চাদরের নিচে প্রায় ৪০০টিরও বেশি হ্রদ আছে। এই হ্রদগুলো কোটি কোটি বছর ধরে বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে‚ যা বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় রহস্য। পৃথিবীর প্রায় সব জায়গা কোনো না কোনো দেশের অধীনে থাকলেও‚ অ্যান্টার্কটিকা বা দক্ষিণ মেরু কোনো দেশের নয়। “অ্যান্টার্কটিক চুক্তি” অনুযায়ী এই মহাদেশটি শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শান্তির জন্য ব্যবহৃত হয়।


মজার বিষয় হচ্ছে‚ এখানে একটি জলপ্রপাত আছে যেখান থেকে লাল রঙের জল বের হয়। প্রথম দিকে মানুষ একে অলৌকিক কিছু মনে করলেও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে‚ এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় বাতাসের সংস্পর্শে এসে এর রঙ লাল হয়ে যায়।

আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে‚ আপনি নিশ্চয়ই পেঙ্গুইন নামের ছোট্ট কিউট প্রাণী গুলাকে বিভিন্ন ইংলিশ সিনেমায় দেখে থাকবেন‚ সেগুলোর রাজত্ব কিন্তু অ্যান্টার্কটিকায়। উত্তর মেরুর মতো দক্ষিণ মেরুতেও আকাশের গায়ে রঙিন আলোর নাচন দেখা যায়‚ যাকে “অরোরা অস্ট্রালিস” বলা হয়। রাতের আকাশে সবুজ‚ বেগুনি আর নীল আলোর এই দৃশ্য অ্যান্টার্কটিকাকে আরো জটিল আর সৌন্দর্য করে তুলে। আমি শুধু ভাবি‚ পৃথিবীর মতো এরকম ক্ষুদ্র একটি স্থানে যদি “মহান স্রষ্টা” এত রহস্য আর সৌন্দর্য রাখতে পারে‚ না জানি আমাদের অজানা বিশাল মহাবিশ্বে কত রহস্য আর সৌন্দর্য দ্বারা ঘিরে রেখেছে “সুবহানল্লাহ।”

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ